ক্রিকবাজের বিশেষ সাক্ষাৎকারে হার্শা ভোগলের মুখোমুখি সাকিব আল হাসান – Shakib Al Hasan

Cricbuzz In Conversation ft. Shakib Al Hasan Bangladesh’s Poster Boy

ক্রিকবাজের এক বিশেষ অনলাইন সাক্ষাৎকারে জনপ্রিয় উপস্থাপক হার্শা ভোগলের মুখোমুখি হলেন বিশ্ব সেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। এসময় হার্শা সাকিবকে নানা রকমের প্রশ্ন করেন। হার্শা হাস্যরসে প্রথমেই সাকিবকে জিজ্ঞেস করলেন কোথায় বাংলাদেশ, কোথায় ঢাকা এবং চিটাগাং আর কোথায় আমেরিকা, তুমি কোথায় ?

উত্তরে সাকিব বলেন ” এখন আমি ম্যাডিসন সিটিতে আছি। অবশ্যই এখন পরিস্থিতি খুব একটা ভালো নয়। আমার কিছুদিন আগে একটি মেয়ে হয়েছে তার বয়স ৪০ দিন। আমি আমার দেশকে অবশ্যই অনেক মিস করছি। এটা আমার জন্য অনেক কঠিন কিন্তু আমার মেয়েরা আমাকে অনেক ব্যাস্ত রাখছে। এটা অনেক কঠিন দেশ থেকে এতদিন ধরে বাইরে থাকা। কিন্তু আমি আমার পরিবারের সাথেই সারাদিন সময় কাটাই তাই খুব একটা সমস্যা হয় না।” ধরে বাইরে থাকা এই প্রথম।

এর পরেই হার্শা সাকিবকে তার অনুষ্ঠানের প্রথম প্রশ্ন করেন :

প্রথম প্রশ্ন : আমরা সচিন টেন্ডুলকার, বিরাট কোহলি, রোহিত, দ্রাবিড়, কুম্বলেদের মতো সুপারস্টারদের ফ্যানদের দেখেছি। আমরা সৌরভ গাঙ্গুলির বাঙালী ফ্যানদের ও দেখেছি তারা কতটা প্যাশনেট, কতটা ইমোশনাল। বাংলাদেশে ক্রিকেটের সুপারস্টার আপনি, বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এই বিষয়টা কেমন ?

উত্তরে সাকিব বলেন ” বাংলাদেশের সুপারস্টার হিসেবে এটা অনেক দায়িত্বের কাজ। অনেক এক্সপেকটেশন থাকে সবার। এটা আসলে আমাকে উৎসাহী করে। আমি লিওনেল মেসির অনেক বড় ফ্যান। আমি যখন দেখি মেসি পারফর্মেন্স করতে পারে না, তখন আমি ভাবি কেন সে করতে পারছে না। আমি এক্সপেক্ট করি সে সবসময়ই ভালো খেলবে। আর আমি মনে করি আমার ফ্যানরাও আমার কাছ থেকে সেটাই এক্সপেক্ট করে। আর সেটাই আমাকে বেশি উৎসাহী করে। ”

হার্শা তার দ্বিতীয় প্রশ্নে সাকিবকে জিজ্ঞেস করেন
প্রশ্ন : তুমি কি কখনো তামিম মুশফিকের সাথে বসেছো একসাথে এবং তোমাদের এতো বছরের সাফল্যের একসাথে চলা নিয়ে আলোচনা হয়েছে কখনো ?

সাকিব হেসে উত্তর দেন : আমার মনে হয় উত্তম সময় আমরা যখন তিনজন একসাথে অবসরে যাবো তখন আমরা একসাথে বসে এটা নিয়ে আলোচনায় বসবো। অন্তত আরো তিন /চার বছর আমরা হয়তো খেলা নিয়েই ভাববো। সামনে ২০২৩ বিশ্বকাপ। এখন আমরা সেটা নিয়েই ভাববো। তারপর আমরা যখন অবসরে যাবো, আমরা আমাদের খেলার এই বিষয় গুলো স্মরণ করবো।

হার্শার তৃতীয় প্রশ্ন ছিলো:
প্রশ্ন : কখনো কি ভেবেছো তোমরা যদি তিন জন একসাথে অবসর নেয়ার কথা বলো দর্শকরা কেমন উত্তেজিত হয়ে যাবে? তোমাদের তিনজনের মধ্যে সফলতা নিয়ে কি কোনো দ্বন্দ্ব হতো ?

সাকিব বলেন ” আমাদের মধ্যে অনেক ভালো কিছু দ্বন্দ্ব হতো, আর এটা দলের জন্য খুব ভালো। এই ধরণের দ্বন্দ্ব দলের জন্য খুব ভালো। যেমন একজন যদি ১০০ করে আর একজন ১২০ করতে হবে। আমাদের মধ্যে এমন দ্বন্দ্ব আছে। আমরা আসলে সব ফরমেটেই কাছাকাছি রানের মধ্যে আছি , আমি সব ক্ষেত্রেই উচ্চে থাকতে চাই , এই ধরণের দ্বন্দ্বই আসলে দলের জন্য ভালো।

Shakib AL Hasan Live

এর পরেই হার্শা সাকিবকে তার প্রথম শুরুর সাকসেস সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেন। সাকিব জানান আমি কলকাতায় আন্ডার ১৫ খেলতে গিয়েছি যেটা আমার প্রথম বিদেশের টুর ছিলো, এর পরে আমাকে আর থামতে হয়নি। এসময় সাকিব তার আগের খেলা গুলো নিয়েও হার্শার সাথে আলোচনা করেন। সাকিব বলেনা আমরা টেন্ডুলকার, গাঙ্গুলি, দ্রাবিড়দেড় খেলা দেখে বড় হয়েছি, আমরা যখন তাদের বিপরীতে খেলতে গিয়েছি আমরা অবাক ছিলাম, এটা আমাদের কাছে স্বপ্ন মনে হচ্চিল। যাদের খেলা দেখে আমরা বড় হয়েছি তাদের বিপরীতে খেলাটা একটু অন্যরকম ছিলো।

এর পরে হার্শা সাকিবকে জিজ্ঞেস করেন ২০১৯ বিশ্বকাপে সাকিবকে আমরা দেখেছি সত্যি অন্যরকম একটা পারফর্ম করতে। কি এমন পরিবর্তন ছিল যার কারণে তুমি হটাৎ এমন পারফর্ম করলে,

উত্তরে সাকিব বলেন, “মানসিকতা” ২০১৮ এর ডিসেম্বর থেকে আমি চিন্তা করছিলাম আমি যা দিতে পারি, তা হয়তো আমি করতে পারছি না। বিশ্বকাপের মঞ্চে অনেক বড় খেলোয়াড়েরা খেলে আমি চ্যালেঞ্জ নিয়েছিলাম এই বিশ্বকাপে আমি কিছু একটা করে দেখাবো। তখনি আমি আইপিএল খেলতে যাই আর আমি ভাবি আমাকে বিশ্বকাপের মঞ্চের জন্য প্রস্তুত করতে হবে। তখনি আমি সকল ট্রেনিং শুরু করি, আমি বাংলাদেশ থেকে আমার আমার পার্সোনাল কোচ হিসেবে সালাহউদ্দিন স্যার’কে নিয়ে যাই আর আমি আমার প্রস্তুতি শুরু করি।

এর পরে হার্শা সাকিবকে সুপার ওভারের জন্য তার পছন্দের খেলোয়াড়দের চুজ করতে বলেন। সাকিব বেন স্টোকস, হার্দিক পান্ডিয়া ও আন্দ্রে রাসলেকে ব্যাটিং এর জন্য চুজ করেন ও বোলিং এর জন্য সুনীল নারিন কে চুজ করেনা।

এটাই ছিল সাকিবের ক্রিকবাজকে দেয়া সাক্ষাৎকারের প্রথম অংশ।

 

 

 

 

Related Articles